আল্লাহর নাম নিয়ে (আরম্ভ করছি), (যিনি) রহমান (--পরম করুণাময়, যিনি অসীম করুণা ও দয়া বশতঃ বিশ্বজগতের সমস্ত সৃষ্টির সহাবস্থানের প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা অগ্রিম করে রেখেছেন), (যিনি) রহীম (--অফুরন্ত ফলদাতা, যাঁর অপার করুণা ও দয়ার ফলে প্রত্যেকের ক্ষুদ্রতম শুভ-প্রচেষ্টাও বিপুলভাবে সাফল্যমণ্ডিত ও পুরস্কৃত হয়ে থাকে)।
শব্দে চাপ দিয়ে অর্থ দেখুন
নিচে উল্লেখ করা তাফসীর থেকে প্রস্তুত সংক্ষেপ; নিজে কোনো তাফসীর নয়।
প্রতিটি ভালো কাজ আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু করা হয়। আর-রাহমান ও আর-রাহীম — দুটিই রহমত (দয়া) শব্দমূল থেকে; তাফসীরকারগণ বলেন, প্রথমটি তাঁর সর্বব্যাপী দয়া বোঝায়, দ্বিতীয়টি তাঁর বিশেষ দয়া, যা বিশেষত মুমিনদের প্রতি।
মূল শিক্ষা
- ✓কাজের শুরুতে আল্লাহর নাম নেওয়া।
- ✓আল্লাহর পরিচয়ে দয়াই প্রথমে আসে।
اِنَّهٗ مِنۡ سُلَيۡمٰنَ وَاِنَّهٗ بِسۡمِ اللّٰهِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِيۡمِۙ
''এটি আলবৎ সুলাইমানের কাছে থেকে, আর এটি প্রধানতঃ এই -- 'আল্লাহ্র নাম নিয়ে, যিনি রহমান, রহীম, --
সুলাইমান (আ.)-এর চিঠি বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্র প্রাপ্য, সমুদয় সৃষ্ট-জগতের রব্ব।
শব্দে চাপ দিয়ে অর্থ দেখুন
নিচে উল্লেখ করা তাফসীর থেকে প্রস্তুত সংক্ষেপ; নিজে কোনো তাফসীর নয়।
সব প্রশংসা আল্লাহর — কারণ সব ভালো কিছুর উৎস তিনি। "রব" মানে যিনি সৃষ্টি করেন, লালন-পালন করেন ও পরিচালনা করেন। "আল-আলামীন" — সব জগৎ: মানুষ, জিন, ফেরেশতা ও সমগ্র সৃষ্টি।
মূল শিক্ষা
- ✓আল্লাহ সমগ্র সৃষ্টির রব, শুধু কোনো একটি জাতির নন।
- ✓নিয়ামতের জন্য প্রশংসা আল্লাহর প্রাপ্য।
اَلۡحَمۡدُ لِلّٰهِ الَّذِىۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ وَجَعَلَ الظُّلُمٰتِ وَالنُّوۡرَ ؕ ثُمَّ الَّذِيۡنَ كَفَرُوۡا بِرَبِّهِمۡ يَعۡدِلُوۡنَ
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্র জন্য যিনি মহাকাশমন্ডল ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, আর তিনি তৈরি করেছেন অন্ধকার ও আলো। তবু যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তারা তাদের প্রভুর সাথে দাঁড় করায় সমকক্ষ।
আসমান-যমীন সৃষ্টির জন্য প্রশংসা
وَالۡحَمۡدُ لِلّٰهِ رَبِّ الۡعٰلَمِيۡنَ
আর সকল প্রশংসা আল্লাহ্রই জন্য -- বিশ্বজগতের প্রভু!
একই বাক্য দিয়ে সূরার সমাপ্তি
নিচে উল্লেখ করা তাফসীর থেকে প্রস্তুত সংক্ষেপ; নিজে কোনো তাফসীর নয়।
রবের পরিচয়ের পরেই আবার দয়ার উল্লেখ — তাঁর প্রতিপালন দয়ায় পূর্ণ।
মূল শিক্ষা
- ✓আল্লাহর রহমতের আশা কখনো ছাড়া যায় না।
وَاكۡتُبۡ لَـنَا فِىۡ هٰذِهِ الدُّنۡيَا حَسَنَةً وَّفِى الۡاٰخِرَةِ اِنَّا هُدۡنَاۤ اِلَيۡكَ ؕ قَالَ عَذَابِىۡۤ اُصِيۡبُ بِهٖ مَنۡ اَشَآءُ ۚ وَرَحۡمَتِىۡ وَسِعَتۡ كُلَّ شَىۡءٍ ؕ فَسَاَكۡتُبُهَا لِلَّذِيۡنَ يَتَّقُوۡنَ وَيُؤۡتُوۡنَ الزَّكٰوةَ وَالَّذِيۡنَ هُمۡ بِاٰيٰتِنَا يُؤۡمِنُوۡنَ ۚ
''আর আমাদের জন্য বিধান করো এই দুনিয়াতেই কল্যাণ এবং পরকালেও, আমরা নিঃসন্দেহ তোমার দিকেই ফিরছি।’’ তিনি বললেন -- ''আমার শাস্তি -- তা দিয়ে আমি আঘাত হানবো যাকে ইচ্ছা করবো, কিন্তু আমার করুণা -- তা সব-কিছুই পরিবেষ্ঠন করে। সুতরাং আমি তা বিধান করবো তাদের জন্য যারা ধর্মভীরুতা অবলন্বন করে, আর যাকাত আদায় করে, আর যারা আমাদের নির্দেশাবলীতে বিশ্বাস করে, --
"আমার দয়া সবকিছুকে পরিব্যাপ্ত করেছে"
নিচে উল্লেখ করা তাফসীর থেকে প্রস্তুত সংক্ষেপ; নিজে কোনো তাফসীর নয়।
আল্লাহ বিচার দিবসের মালিক। সেদিন সব কর্তৃত্ব শুধু তাঁরই, কেউ কারও কোনো উপকার করতে পারবে না। দয়ার কথার পরে বিচারের কথা — আশা ও ভয়ের ভারসাম্য।
মূল শিক্ষা
- ✓প্রতিটি কাজের হিসাব হবে।
- ✓আশা ও ভয় দুটোই ঈমানের অংশ।
يَوۡمَ لَا تَمۡلِكُ نَفۡسٌ لِّنَفۡسٍ شَيۡـــًٔا ؕ وَالۡاَمۡرُ يَوۡمَٮِٕذٍ لِّلَّهِ
এ সেইদিন যেদিন কোনো সত্ত্বা কোনো আত্মার জন্যে কোনো-কিছু করার সামর্থ্য রাখবে না। আর কর্তৃত্ব সেইদিন হবে আল্লাহ্রই।
"সেদিন সব কর্তৃত্ব আল্লাহর"
তাফসীর ইবনু কাসীর
ইমাম ইবনু কাসীর (মৃ. ৭৭৪ হি.)
সূরা আল-ফাতিহা, আয়াত ১–৪-এর তাফসীর
তাফসীর আত-তাবারী (জামিউল বায়ান)
ইমাম ইবনু জারীর আত-তাবারী (মৃ. ৩১০ হি.)
সূরা আল-ফাতিহা, আয়াত ১–৪-এর তাফসীর
তাফসীর মাআরিফুল কুরআন
মুফতী মুহাম্মাদ শফী (মৃ. ১৩৯৬ হি.)
সূরা আল-ফাতিহা, আয়াত ১–৪-এর তাফসীর
তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া (অ্যাপে "তাফসীর" দেখুন)
ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
সূরা আল-ফাতিহা, আয়াত ১–৪-এর তাফসীর
